স্যার আইজ্যাক নিউটন,,,
স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton) ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী বিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী। ১৬৪২ সালের ২৫ ডিসেম্বর (পুরানো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী) ইংল্যান্ডের লিঙ্কনশায়ারের উলসথর্প নামক একটি ছোট গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
নিচে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:Conversation with Gemini
নিউ টনের জীবনী লিখে দাও
স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton) ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী বিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী। ১৬৪২ সালের ২৫ ডিসেম্বর (পুরানো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী) ইংল্যান্ডের লিঙ্কনশায়ারের উলসথর্প নামক একটি ছোট গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
নিচে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. বাল্যকাল ও শিক্ষা জীবন
জন্ম ও পরিবার: নিউটনের জন্মের আগেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। তাঁর যখন তিন বছর বয়স, তখন তাঁর মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং নিউটন তাঁর নানীর কাছে বড় হন। এই একাকীত্ব তাঁর শৈশবকে কিছুটা অন্তর্মুখী করে তুলেছিল।
স্কুল জীবন: কিংস্ স্কুলে পড়ার সময় তাঁর মেধার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন যান্ত্রিক মডেল (যেমন: জলঘড়ি, উইন্ডমিল) তৈরিতে দারুণ পারদর্শী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়: ১৬৬১ সালে তিনি কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি এরিস্টটলের দর্শনের পাশাপাশি ডেসকার্টেস, গ্যালিলিও এবং কেপলারের আধুনিক বিজ্ঞান ও গণিত নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।
২. প্লেগ মহামারী এবং "অলৌকিক বছর" (১৬৬৫–১৬৬৬)
১৬৬৫ সালে লন্ডনে প্লেগ মহামারী ছড়িয়ে পড়লে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। নিউটন তাঁর গ্রামের বাড়ি উলসথর্পে ফিরে আসেন। এই দুই বছরে তিনি একাকী বসে বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কিছু আবিষ্কার করেন:
মহাকর্ষ সূত্র: একদিন বাগানে বসে থাকার সময় আপেল মাটিতে পড়ার ঘটনা দেখে তিনি চিন্তা করতে শুরু করেন—কেন আপেলটি সোজা নিচের দিকেই পড়ল? এখান থেকেই তাঁর মাথায় মহাকর্ষের (Gravity) ধারণা আসে।
ক্যালকুলাস: গণিতের জটিল হিসাব সমাধানের জন্য তিনি সম্পূর্ণ নতুন একটি শাখা 'ক্যালকুলাস' (Calculus) আবিষ্কার করেন।
আলোকবিজ্ঞান (Optics): তিনি প্রমাণ করেন যে সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের মিশ্রণ এবং তিনি প্রথম প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Reflecting Telescope) তৈরি করেন।
৩. প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা ও গতির সূত্র
১৬৮৭ সালে নিউটনের বিখ্যাত বই "Philosophiae Naturalis Principia Mathematica" (প্রিন্সিপিয়া) প্রকাশিত হয়। এই বইটিকে বিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই মনে করা হয়। এই বইয়ে তিনি তাঁর বিখ্যাত গতির তিনটি সূত্র এবং মহাকর্ষ সূত্র প্রকাশ করেন, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করে।
৪. পরবর্তী জীবন ও সম্মান
১৬৬৯ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের 'লুকাসিয়ান অধ্যাপক' (Lucasian Professor) হন।
১৭০৩ সালে তিনি 'রয়্যাল সোসাইটি'র সভাপতি নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু এই পদে ছিলেন।
১৭০৫ সালে রানী অ্যান তাঁকে বিজ্ঞানে অবদানের জন্য 'স্যার' (Sir) উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি এই সম্মান পেয়েছিলেন।
জীবনের শেষভাগে তিনি লন্ডনের 'রয়্যাল মিন্ট' (টাকশাল)-এর মাস্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
৫. মহাপ্রয়াণ
১৭২৭ সালের ২০ মার্চ (নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩১ মার্চ) এই মহান বিজ্ঞানী ৮৪ বছর বয়সে লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে (Westminster Abbey) রাষ্ট্রীয় সম্মানে সমাহিত করা করা হয়।
একটি বিখ্যাত উক্তি:
নিজের আবিষ্কার সম্পর্কে নিউটন নম্রভাবে বলেছিলেন— "আমি যদি অন্য সবার চেয়ে দূরে দেখতে পেয়ে থাকি, তবে তা সম্ভব হয়েছে আমি দানবদের কাঁধে চড়েছিলাম বলে।" (অর্থাৎ, পূর্ববর্তী বিজ্ঞানীদের কাজের ওপর ভিত্তি করেই তিনি এগিয়েছেন)।
সংক্ষিপ্ত নয়,,বড় করে লিখে দাও
স্যার আইজ্যাক নিউটন (Sir Isaac Newton) ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী, গণিতবিদ, পদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক। সপ্তদশ শতকের বিজ্ঞান বিপ্লবের প্রধান নায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর আবিষ্কৃত গতির তিনটি সূত্র এবং সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিল। নিচে তাঁর জীবন, সংগ্রাম, অসামান্য আবিষ্কার এবং কর্মময় জীবনের বিস্তারিত ইতিহাস তুলে ধরা হলো:
১. জন্ম, শৈশব ও পারিবারিক পটভূমি
১৬৪২ সালের ২৫ ডিসেম্বর (জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী) ইংল্যান্ডের লিঙ্কনশায়ারের উলসথর্প-বাই-কোলস্টারওয়ার্থ নামক একটি ছোট গ্রামে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে নিউটন জন্মগ্রহণ করেন।
জন্মের অলৌকিকতা: নিউটনের জন্মের তিন মাস আগেই তাঁর পিতা (যাঁর নামও ছিল আইজ্যাক নিউটন) মারা যান। নিউটন যখন জন্মেছিলেন তখন তিনি ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল এবং আকারে এতই ছোট যে তাঁর বেঁচে থাকার আশাই করা হয়নি।
শৈশবের মানসিক আঘাত: নিউটনের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তাঁর মা হানা এইসকফ আবার বিয়ে করেন রেভারেন্ড বার্নাবাস স্মিথ নামের এক ধনী পাদ্রীর সাথে। মা তাঁর নতুন স্বামীকে নিয়ে অন্য গ্রামে চলে যান এবং নিউটনকে তাঁর নানীর (মার্গারি আইসকফ) কাছে রেখে যান। মায়ের এই চলে যাওয়া নিউটনের মনে গভীর ক্ষোভ ও একাকীত্বের জন্ম দেয়, যা তাঁর পরবর্তী জীবনের অন্তর্মুখী ও খিটখিটে স্বভাবের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
মায়ের প্রত্যাবর্তন: নিউটনের বয়স যখন বারো বছর, তখন তাঁর সৎ বাবা মারা যান এবং তাঁর মা তিন সন্তানসহ আবার উলসথর্পে ফিরে আসেন।
২. শিক্ষাজীবন ও মেধার বিকাশ
স্কুল জীবন ও প্রাথমিক প্রতিভা
১২ বছর বয়সে নিউটনকে গ্রান্থামের কিং'স স্কুলে পাঠানো হয়। সেখানে থাকার সময় তিনি লুই ফক্স নামের এক ঔষধ বিক্রেতার (Apothecary) বাড়িতে থাকতেন।
স্কুলে শুরুতে নিউটন খুব একটা ভালো ছাত্র ছিলেন না। কিন্তু একবার স্কুলের এক সহপাঠী তাঁকে লাথি মারলে, নিউটন প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি পড়াশোনায় তাকে হারিয়ে দেবেন এবং দ্রুতই তিনি স্কুলের শীর্ষ ছাত্রে পরিণত হন।
এই সময়েই তাঁর যান্ত্রিক প্রতিভার বিকাশ ঘটে। তিনি কাঠ দিয়ে চমৎকার সব ঘড়ি, জলঘড়ি, উইন্ডমিল (পবনচक्की) এবং কাগজের তৈরি ফানুস বানাতেন।
মা-এর বাধা ও পড়াশোনায় ফেরা
নিউটন যখন ১৭ বছর বয়স, তখন তাঁর মা তাঁকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন যাতে তিনি পারিবারিক খামার দেখাশোনা করতে পারেন। কিন্তু কৃষিকাজে নিউটনের বিন্দুমাত্র মন ছিল না। তিনি মাঠে গিয়ে ভেড়া চড়ানোর বদলে গাছের নিচে বসে অঙ্ক কষতেন বা বই পড়তেন। তাঁর মামা এবং কিং'স স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিউটনের মেধা বুঝতে পেরে তাঁর মাকে বোঝান এবং নিউটনকে আবার স্কুলে ফেরত পাঠানো হয়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ (১৬৬১)
১৬৬১ সালের জুনে নিউটন কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে ভর্তি হন।
তাঁর আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় তিনি সেখানে 'সাপিজার' (Sizar) হিসেবে যোগ দেন। এর অর্থ হলো, ধনী ছাত্রদের টেবিল পরিষ্কার করা, খাবার এনে দেওয়া এবং ঘরের কাজ করার বিনিময়ে তিনি বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পেতেন।
সেই সময়ে কেমব্রিজে মূলত এরিস্টটলের দর্শন পড়ানো হতো। কিন্তু নিউটন এরিস্টটলের চেয়ে রেনে দেকার্তে, গ্যালিলিও গ্যালিলি, নিকোলাস কোপার্নিকাস এবং জোহানেস কেপলারের আধুনিক ধারণার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। তিনি তাঁর নোটবুকে লিখেছিলেন: "প্লেটো আমার বন্ধু, এরিস্টটল আমার বন্ধু, কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু হলো সত্য।"
১৬৬৫ সালে তিনি কোনো বিশেষ কৃতিত্ব ছাড়াই সাধারণ স্নাতক (BA) ডিগ্রি লাভ করেন।
৩. অলৌকিক বছরগুলো (Annus Mirabilis: ১৬৬৫–১৬৬৬)
১৬৬৫ সালে লন্ডনে ভয়াবহ 'প্লেগ মহামারী' ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। নিউটন তখন তাঁর গ্রামের বাড়ি উলসথর্পে ফিরে আসেন। জীবনের এই পরবর্তী ১৮ মাস তিনি সম্পূর্ণ একাকী কাটান। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই সময়টুকুকে 'অলৌকিক বছর' বলা হয়, কারণ এই একাকীত্বেই তিনি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে যুগান্তকারী তিনটি আবিষ্কারের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন:
ক) ক্যালকুলাস আবিষ্কার
গণিতের প্রচলিত নিয়ম দিয়ে মহাবিশ্বের পরিবর্তনশীল গতি বা ত্বরণ পরিমাপ করা সম্ভব ছিল না। নিউটন নিজেই এর সমাধানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি গাণিতিক শাখা উদ্ভাবন করেন, যার নাম 'ফ্লাক্সিয়ন' (Fluxions), যা আজ আমরা ক্যালকুলাস (Calculus) নামে জানি। (যদিও এটি তিনি তখন প্রকাশ করেননি, যার কারণে পরবর্তীতে জার্মান গণিতবিদ গটফ্রিড লাইবনিজের সাথে তাঁর তীব্র শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হয়েছিল)।
খ) আলোকবিজ্ঞান (Optics)
গ্রামের বাড়ির অন্ধকার ঘরে বসে নিউটন আলোর প্রকৃতি নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন।
তিনি জানালার একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে আসা সূর্যের আলোকে একটি কাঁচের প্রিজমের (Prism) মধ্য দিয়ে চালনা করেন। তিনি দেখেন যে, সাদা আলো প্রিজম থেকে বের হয়ে সাতটি রঙে (বেনীআসহকলা) বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।
এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, সাদা আলো কোনো একক আলো নয়, বরং এটি সাতটি রঙের মিশ্রণ।
এই জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে ১৬৬৮ সালে তিনি বিশ্বের প্রথম প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Reflecting Telescope) তৈরি করেন, যা আজও জ্যোতির্বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
গ) মহাকর্ষ সূত্র ও আপেলের গল্প
জনশ্রুতি আছে যে, ১৬৬৬ সালের এক বিকেলে উলসথর্পের বাগানে বসে থাকার সময় নিউটন একটি আপেল গাছ থেকে মাটিতে পড়তে দেখেন। তিনি চিন্তা করলেন—আপেলটি ডানে-বামে বা উপরের দিকে না গিয়ে সোজা নিচের দিকেই কেন পড়ল?
এর থেকে তিনি সিদ্ধান্তে আসেন যে, পৃথিবী নিশ্চয়ই তার কেন্দ্রের দিকে সবকিছুকে আকর্ষণ করছে। এই চিন্তা থেকেই তিনি তাঁর বিখ্যাত সর্বজনীন মহাকর্ষ সূত্র (Universal Law of Gravitation) প্রতিষ্ঠা করেন, যা প্রমাণ করে যে মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করছে।
৪. কর্মজীবন ও "প্রিন্সিপিয়া" প্রকাশ
লুকাসিয়ান অধ্যাপক (১৬৬৯)
১৬৬৭ সালে কেমব্রিজ পুনরায় খুললে নিউটন সেখানে ফিরে যান এবং ট্রিনিটি কলেজের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৬৬৯ সালে তাঁর গণিত শিক্ষক আইজ্যাক ব্যারো নিউটনের মেধা দেখে নিজের পদ ছেড়ে দেন এবং মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিউটন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের 'লুকাসিয়ান গণিত অধ্যাপক' (Lucasian Professor of Mathematics) পদে অধিষ্ঠিত হন।
প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকা (১৬৮৭)
বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালির (যাঁর নামে হ্যালির ধূমকেতু) আর্থিক ও মানসিক সহায়তায় ১৬৮৭ সালের ৫ জুলাই নিউটনের যুগান্তকারী গ্রন্থ "Philosophiae Naturalis Principia Mathematica" (প্রাকৃতিক দর্শনের গাণিতিক নীতি) প্রকাশিত হয়। ৩ খণ্ডের এই বইটিকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কাজ মনে করা হয়। এই বইয়ে তিনি:
১. গতির তিনটি সূত্র প্রদান করেন (জড়তার সূত্র, বল ও ত্বরণের সূত্র, এবং ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র)।
২. মহাকর্ষ সূত্রের গাণিতিক রূপ ব্যাখ্যা করেন।
৩. প্রমাণ করেন যে, পৃথিবীর জোয়ার-ভাটা, চাঁদের গতি এবং গ্রহগুলোর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার নিয়ম একই সূত্রে (মহাকর্ষ) বাঁধা।
৫. পরবর্তী জীবন, রাজনীতি ও সম্মাননা
জীবনের শেষ তিন দশকে নিউটন বিজ্ঞান সাধনা থেকে কিছুটা দূরে সরে এসে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাজে যুক্ত হন।
সংসদ সদস্য: ১৬৮৯ এবং ১৭০১ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ব্রিটিশ সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তবে রাজনীতিতে তিনি খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না।
রয়্যাল মিন্টের মাস্টার (১৬৯৯): ১৬৯৬ সালে তিনি লন্ডনের রয়্যাল মিন্ট (রাজকীয় টাকশাল)-এর ওয়ার্ডেন এবং ১৬৯৯ সালে 'মাস্টার' হন। তিনি জাল টাকা রোধে ব্রিটিশ মুদ্রাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনেন এবং মুদ্রার কিনারে খাঁজকাটা দাগ দেওয়ার নিয়ম চালু করেন।
রয়্যাল সোসাইটির সভাপতি (১৭০৩): ১৭০৩ সালে তিনি বিজ্ঞানের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান 'রয়্যাল সোসাইটি'র সভাপতি নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু এই পদে বহাল ছিলেন।
নাইটহুড (১৭০৫): ১৭০৫ সালে রানী অ্যান কেমব্রিজ সফরে গিয়ে নিউটনকে 'স্যার' (Sir) উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বিজ্ঞানে অবদানের জন্য ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে এই সম্মান পান।
৬. ব্যক্তিত্ব, আধ্যাত্মিকতা ও বিতর্ক
নিউটন ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত জটিল ও অদ্ভুত স্বভাবের মানুষ ছিলেন।
বিতর্ক: তিনি সমালোচনা একদম সহ্য করতে পারতেন না। আলোর তত্ত্ব নিয়ে রবার্ট হুকের সাথে এবং ক্যালকুলাসের কৃতিত্ব নিয়ে লাইবনিজের সাথে তাঁর আজীবন তিক্ত শত্রুতা ছিল।
ধর্মীয় ও অ্যালকেমি চর্চা: বিজ্ঞানের পাশাপাশি নিউটন গোপনে বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী এবং 'অ্যালকেমি' (রসায়নশাস্ত্রের প্রাচীন রূপ, যার লক্ষ্য ছিল সস্তা ধাতু থেকে সোনা বানানো) নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছিলেন। তিনি প্রচলিত ত্রিত্ববাদে (Trinity) বিশ্বাস করতেন না, তবে ঈশ্বরকে মহাবিশ্বের মূল কারিগর মনে করতেন।
অবিবাহিত জীবন: নিউটন সারাজীবন অবিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সংখ্যা ছিল খুবই কম।
৭. মহাপ্রয়াণ ও চিরন্তন উত্তরাধিকার
১৭২৭ সালের ২০ মার্চ (নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩১ মার্চ) ৮৪ বছর বয়সে লন্ডনে এই মহান বিজ্ঞানী ঘুমের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁকে লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে (Westminster Abbey) সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়, যেখানে সাধারণত রাজা-রানীদের সমাহিত করা হতো। তাঁর কফিনের শোভাযাত্রায় ইংল্যান্ডের বড় বড় লর্ড ও অভিজাত ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছিলেন। फ्रेंच দার্শনিক ভলতেয়ার, যিনি সেই সময় লন্ডনে ছিলেন, মন্তব্য করেছিলেন: "ইংল্যান্ড একজন বিজ্ঞানীকে সেভাবেই সম্মান জানিয়েছে, যেভাবে অন্য দেশগুলো তাদের রাজাকে সম্মান জানায়।"
শেষ মূল্যায়ন
নিউটন আধুনিক বিজ্ঞানকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর কাজ ছাড়া শিল্প বিপ্লব এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ অসম্ভব ছিল। বিজ্ঞান নিয়ে নিজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে মৃত্যুর কিছুকাল আগে তিনি লিখেছিলেন:
"পৃথিবীর মানুষ আমাকে কী ভাবল তা আমি জানি না, কিন্তু নিজের কাছে মনে হয় আমি সমুদ্রের সৈকতে খেলা করা এক শিশুর মতো, যে কেবল এদিক-ওদিক ঘুরে সাধারণের চেয়ে কিছুটা মসৃণ নুড়ি পাথর বা সুন্দর ঝিনুক কুড়িয়ে পেয়েছে; অথচ আমার সামনে সত্যের বিশাল মহাসমুদ্র সম্পূর্ণ আবিষ্কৃত অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে।"
Gemini is AI and can make mistakes.
Comments
Post a Comment